Posts

...বরং একটি উড়িজাহাদের গল্প

বর্ষাকাল প্রায় আসন্ন। বাড়ির উঠোনে পিঁপড়ের সারি সারি লাইন। মুখে খাবার নিয়ে দলে দলে তারা একটি গর্তের ভেতরে ঢুকছে। ওদের ঘরবন্দি থাকার দিন ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। দু'মাস বাইরের প্রকৃতি থেকে নিজেদের বন্দি করে রাখবে। ঘরের দাওয়ায় বিড়ি বাঁধতে বসে মাধবী অবসন্ন মনে এসবই লক্ষ্য করে। মাস ছ'য়েক আগে মাধবীর স্বামী দিল্লি গেছে। কাজ করতে। সামনের মাসেই তার ফেরার কথা ছিল। ক'দিন আগে ঘোষণা হয়েছে-----'লকডাউন'। কী সব অদ্ভুত ব্যপার। বাপের জন্মেও শুনেনি সে নাম। ওপাড়ার অমর মাস্টার বলেছে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে নাকি আগামী দু'মাস। গোটাদেশ স্তব্ধ থাকবে। গাড়ী-ঘোড়া কিচ্ছু চলবে না। কিন্তু পেট দুটো কি কথা শুনবে! হাতে টাকা নেই----বিড়িওলাটাও নাকি আর আসবে না এখন। "বাবা কবে আসবি? আমার ল্যাইগ্যা উড়িজাহাদ লিয়্যা আসবি"। আবেগপূর্ণ ও গভীর প্রত্যাশিত সুরে বছর তিনকের রহিত তার বাবাকে কথাগুলো বলছিল। স্বামীর ফোন বুঝতে পেরে বিড়ি বাঁধা ছেড়ে উঠে পড়ে মাধবী। রহিতের হাত থেকে মোবাইলটা এক প্রকার ছিনিয়ে নিয়ে সে বলে উঠল "গ্যালো পূজার ম্যালাতেই তোর বাবা একটা উড়িজাহাদ কিন্যা দিলো, ভাইঙ্যা দিলি, আর ফের চাহাছিস?...

উলঙ্গ সময়

মৃত্যু এলে, লাল ফিতে ছিঁড়ে জন্ম নেয় স্মৃতিজ্বর। নৈ-আত্মার কামুকে জিভ চেটে দেয় সিঁদুরে-প্রেম। ল্যাংটো হাতে রাঁধা হয় হবিষ্য-চুম্বন। মোনালিসা হাসি বিলীন হয়েছে সেই কবে... যুক্তবর্ণ আছড়ে পড়ে ফোকাস দূরত্বে। ড্রয়ারের হাতলে ভাগের স্টিকার। নেপথ্য চাঁদ লালা ফ্যালে ভাতের কোরাসে।

কোয়ারেন্টাইনড্

নাহ্ আর ভালো লাগছে না! এই লকডাউনে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে মনটাও কেমন সংকুচিত হয়ে গেছে। এই ক'টা দিন বাড়ি গেলেও হতো। আসলে আমিই যাই নি। সামনে পরীক্ষা, রীতিমতো প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া ছুটি-টুটির মাঝে দু-একদিনের জন্য বাড়ি গেলেও এদিক-ওদিক করেই দিন কেটে যায়। পড়াশুনা হয় না মোটেই। ঘরে বসে মাঝে মাঝে ইউটিউবে সিনেমা দেখি। গান শুনি। খবর শুনি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিন দিন। চারিদিকে মৃত্যু মিছিল। মনের মধ্যে মৃত্যুভয় তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। মৃত্যু ঘনিয়ে এলে মানুষের বিভিন্ন রকম জিনিস খেতে ইচ্ছে হয়। আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে ইচ্ছে করে। একটু কথা বলতে ইচ্ছে করে। হারিয়ে যাওয়া বহু পুরাতন মুখমণ্ডল চোখের সামনে এসে ভিড় করে। বহু স্মৃতি মনের ভেতর জাল বুনে। মৃত্যুভয়ের তাড়া খেতে খেতে সুপর্ণার কথা মনে পড়ে গেল আজ। ভাবছেন সুপর্ণা আমার প্রেমিকা? একদম ঠিক। তবে অতীত। আমার এক্স-গার্লফ্রেন্ড। ব্রেকাপের পর বেশ কয়েকবার কথা হয়েছিল ওর সঙ্গে। আমার পুরাতন মোবাইলে ওর নম্বর সেভ ছিল। এই মোবাইলে আছে কিনা খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম। খুব আনন্দ হলো। কল করে খোঁজ-খবর নিলে বরং খুশিই হবে। সে হয়তো মনে মনে ভাববে দুঃসময়ে খোঁজ-খবর...

মধ্যবিত্তের ডায়েরি থেকে: একটা না বলা গল্প

সংসারের দায়িত্বে বাবা হয়ে গেলেন বার্ধক্যের বাহাত্তর। হঠাৎ-ই একদিন গভীর রাতে অসম্ভব বুকের যন্ত্রণা!  মুহূর্তেই সব শেষ! বাড়ির পেছনে প্রতিদিন ডাকতে থাকা কালো প্যাঁচাটার সঙ্গে আমার ছাব্বিশ বছরের 'বাবা' শব্দটা উড়ে গেল বহুদূর... মধ্যবিত্ত বাবার লালচে চিতার আগুনকে আমি দেখেছিলাম পাথর দৃষ্টিতে। সেই থেকে অসহায় মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ হলাম আমি। গ্রামে-গঞ্জে, আশেপাশে শুরু হয়ে গেলো... 'মেয়েটা ঘরে বসে বুড়ি হয়ে গেল...আর কত্দিন এই ভাবে! বিয়ে হবে না ওর...কে নেবে ওকে!' মা-টা আমার বাড়ি ফিরত যন্ত্রণাকে দ্বিগুণ করে, প্রতিরাতেই অনুভব করি মায়ের ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ। আমার রেটিনা জুড়ে গঠিত হয় মায়ের কষ্টের প্রতিবিম্ব! পাশের গ্রামের প্রধানের একমাত্র বখাটে ছেলেটার  দামি নরম গদির বিছানায় গিয়ে বসলাম একদিন, ক্ষুধার্ত নেকড়ের সহজপাচ্য খাদ্য হয়ে বললাম: 'একটা স্থায়ী ভোগ্য বস্তু আর সেবা দাসী হয়ে এসেছি সিঁথিতে অন্তত সিঁদুরটা টেনে দিস আমার।' সেদিন ভোরে সিঁথি রাঙিয়ে আমি হলাম  চরিত্রহীনা, কলঙ্কিনী ও অবহেলিতা একজন 'স্ত্রী'! বহুদিন গ্রামে ফিরিনি আর। রাতের পর রাত পেরিয়ে আবার নতুন ভোরের আলোয় ভরে উ...

তোমাকেই ভালোবাসি শিক্ষানিকেতন

আস্তে আস্তে নিবিড় হচ্ছি আরও। বস্তুত আমি অর্থহীন। আসলে তোমার মতো প্রেমিকার কথা বার বার মনে পড়ে। কি অদ্ভুত সুন্দর ছিল এই পৃথিবী আমার! আজকাল কিছুই ভাল্লাগে না আর। আইস্ক্রিম ব্যাগের ভেতর শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে শুধু। যদিও তুমি জানো ঠান্ডা আমার ধাতে সয় না----জ্বর-সর্দিতে তোমার গন্ডি পৌঁছতে পারিনি বলে কী অভিমান তোমার! কত কইফৎ দিতে হয়েছে বইকি! এখন কতো নাম-ডাক হয়েছে তোমার। পুরো গেট-আপ-ই চেঞ্জ। সবাই একবারেই চেনে। কত্তো ফেমাস হয়ে গেছো তুমি। তবুও জানতে ইচ্ছে করে...তুমি কেমন আছো? এখনও কি আমার কথা মনে পড়ে? এসব দারুণ দারুণ মজার কথাগুলো কাল ভেবেছি সারারাত। তোমার উচ্চ সুখের কথা ভেবে খুশিতে গ্রহণ করেছি অ্যালকোহল। ওহো! তোমাকে অনেক কথা বলা হয়নি প্রিয়। জানো, তোমার ছেড়ে যাওয়ার পর আরও দু'জনকে ভালোবাসতে গেছি। তাদের মধ্যে কাউকেই সৎ, চরিত্রবাণ, কিংবা শৃঙ্খলাপরায়ণ বলে মনে হয়নি আমার। শরীর খারাপ নিয়ে দেখা করিনি বলে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো কইফৎ চায়নি। সহমর্মিতার কথাও বলেনি কেউ। তখন ভাঙা হৃদয়ে বারে বারে তোমাকেই মনে পড়েছে আমার। তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শীতঘুম থেকে জেগে হাজারটা কুনোব্যাঙ আমার রক্তে চিৎকার করে। ...

I Call Your Name

It rains in summer. I bathe with them. Spattering my hands I call your name. Clouds float in sky. I look at them. Flying like a heron I call your name. Moon rises in west And sheds its light. I call your name And dream at night. Roses bloom in bower Flies suck their nectar. I see you merged their wings Playing as an actor. That my attraction grows Surrounded with your fame. Because I LOVE YOU So, I call your name.

তিব্বতের হাঁস

কথা বলতে বলতে ছেলেটি কাগজ দেয় কথা বলতে বলতেই আবার বেরিয়ে যায়। আমার সঙ্গে নয়; কানে ব্লু-টুথ অন্যপ্রান্তে শহরেরই কেউ, হয়তো বা বেলুচিস্তান এই ম্যাজিক সকালকে টেনে লম্বা করে দ্যায় আলো থেকে অন্ধকার একটা দিবস বানিয়ে দ্যায়। মাঝের ধূসর চরে উড়ে আসে তিব্বতের হাঁস ওরা উড়ে...ডানায় ডানায় ইঞ্জিনের আওয়াজ হৃৎপিন্ড থেকে পাকস্থলীতে ধাক্কা দ্যায় 'হাওয়া'।